সিলেটে খালেদা- জোবাইদাকে চায় বিএনপি, হাইকমান্ড চাইলে ইনাম

Posted on by

নিউজ ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদর আসনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে প্রার্থী হিসেবে চান স্থানীয় বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে এই দুজন রাজি না হলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীও প্রার্থী হতে পারেন, যদি দল চায়। এক্ষেত্রে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোকতাদির চৌধুরীও প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সিলেট মহানগর, জেলা ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।সিলেট বিএনপির নেতারা মনে করেন, সিলেটের সদর আসনটি জাতীয় নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ আসনে খালেদা জিয়া বা জোবাইদা রহমান প্রার্থী হলে নিশ্চিতভাবে বিজয় তুলে আনা সহজ হবে। আর অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে জিততে হলে আগেভাগেই কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে হবে পুরো সিলেট নগর ও জেলা বিএনপিকে।সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ম্যাডাম বা জোবাইদা রহমানের বাইরে হলে জয় বের করে আনা কঠিন হবে। অন্যদের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত হতে হবে।খালেদা জিয়া বা জোবাইদা রহমান প্রার্থী হতে আগ্রহী না হলে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী। এক্ষেত্রে দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তবেই তিনি রাজি হবেন। তার ভাষ্য, ‘মনোনয়নের জন্য দৌড় দেবো না, দল চাইলে হবো।’

সিলেট বিএনপির একটি অংশ চায় খালেদা জিয়া বা জোবাইদা না হলে ইনাম আহমদ চৌধুরীই প্রার্থী হোন। বিএনপির ফরেইন উইং এর মেম্বার এবং সাবেক প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এমনকি ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে গেলে সিলেট থেকে ইনাম আহমেদ চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি বলে মনে করেন দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।এদিকে, ঘোষণা দিয়ে কাজে নেমে পড়লেও বয়সে তরুণ হওয়ায় আগামী নির্বাচনেই মোকতাদির চৌধুরীকে মেনে নিতে চাইছেন না অনেক নেতা। যদিও সিলেটে প্রচার আছে, কেন্দ্রের সবুজ সংকেত পেয়েছেন তিনি।সদর আসনে প্রার্থী নির্ধারণে সিলেট বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সিসিসি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী মনে করেন, ‘বিএনপিকেও অ্যানালাইসিস করতে হবে। কাউকে হঠাৎ করে চাপিয়ে দিয়ে নয়, বরং পাবলিকও চায় এমন লিডার দিতে হবে। যে তাদের সুসময় ও দুঃসময়ে সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে।’

নির্বাচনে হঠাৎ করেই প্রার্থী হওয়ার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এখন হঠাৎ করে সেন্ট্রাল থেকে এসে দাঁড়াবে, এটা দিয়ে কাভার হবে না। পাবলিকও বোঝে যে, এই সিটে (সিলেট-১ আসন) যাকে দেবেন তিনি মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখবেন।পাবলিক এটাও বোঝে যে, ক্ষমতায় গিয়ে ভালো পজিশনে না থাকলে আমাদের উন্নয়ন হবে না।সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সদর আসনে মানুষ শক্তিশালী প্রার্থী চায়। এই আসনে জিয়া পরিবারের কেউ আসলে সবাই সাদরে গ্রহণ করবে ।’ এর বাইরে ইনাম আহমদ চৌধুরী যোগ্য প্রার্থী-বলেন তিনি।এ প্রসঙ্গে নাজমুল ইসলাম আরও বলেন, ‘অতীতে সিলেট সদর থেকে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও সাইফুর রহমানের মতো যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়েছেন। সেই হিসেবে ইনাম আহমদের বিকল্প কোনও প্রার্থী আছে বলে আমরা মনে করি না।নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে ইনাম আহমদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা জোবাইদা রহমান এ আসনে প্রার্থী হলে সবচেয়ে ভালো। আর আমি প্রার্থী হবো কিনা- এটা দল বলবে। দল চাইলেই কেবল কাজ করবো।সিলেট বিএনপির একটি অংশ আবার কৌশলী। সরাসরি কোনও প্রার্থীর বিষয়েই মন্তব্য করতে রাজি নয় তারা। তবে নেতারা এও মনে করেন, সিলেটে স্থানীয়দের মধ্যে প্রার্থী দেওয়া হলে সিলেট বিএনপিকে আগে ঐক্যবদ্ধ হবে। বিদ্যমান দ্বন্দ্ব দূর করে এক প্রার্থীকে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এছাড়া, দৃশ্যমান ঐক্য রেখে বিরোধী প্রার্থীকে সহায়তা বা ডামি প্রার্থী দাঁড় করালেও হারতে হবে নিশ্চিত।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘ম্যাডাম বা ডা. জোবাইদা প্রার্থী হলে তো কোনও কথাই নেই। তবে তারা না দাঁড়ালে এমন প্রার্থী দেওয়া উচিত, যাতে আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে আনা যায়।জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইনাম আহমদ চৌধুরী প্রার্থী হতে চান কিনা, জানি না। দেখা যাক কী হয়।ইতোমধ্যেই নিজে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন আব্দুল মোকতাদির চৌধুরী। বিষয়টি সিলেট বিএনপির অনেকেই মানতে পারছেন না। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়তি সুবিধা বিলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন।নিজের সম্পর্কে মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ‘প্রার্থী হওয়া না হওয়া সম্পূর্ণ দলের সিদ্ধান্ত। দল চাইলে আমার প্রার্থী না হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।দলের কেন্দ্রীয় এক সহ-সাংগঠনিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দলীয় টিকিট পেতে তিনি দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। দলীয় প্রধানের কাছে তিনি তার এ ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।তবে বিএনপির হাইকমান্ড মনোনয়নের বিষয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে নারাজ। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের আগে সরকার পদ্ধতি কী হবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্ন থাকায় ভেতরে-ভেতরে প্রার্থী নির্ধারণ ও খোঁজ-খবর রাখলেও এখনই পরিষ্কার করতে রাজি নন।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অনেক নেতার উত্থান-পতন হতে পারে। সেটা দেখে আমরা মনোনয়ন ঠিক করবো। আমি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য হিসেবে এখনই মনোনয়নের বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।’

More News from অন্যান্য

Developed by: TechLoge

x