দুর্নীতির ঘোড়সওয়ার আওয়ামী লীগ সরকার

Posted on by

আওয়ামী লীগ

রহমত উল্লাহ শিপন :: চারিদিকে এখন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যাতে সবার মনেই এক প্রশ্ন, দেশটা যাচ্ছে কোনদিকে? কারণ যে সরকার দেশ চালাচ্ছে তারা এমনভাবে এ কাজ করছে যার মধ্যে বুদ্ধি-বিবেচনা, নীতিজ্ঞান, জনগণের প্রতি সামান্যতম দায়িত্বজ্ঞান, দেশের সম্পদের পবিত্রতা বোধ কিছু আছে এমন ভাবার কোনো কারণ আর নেই। ক্ষমতা মদমত্ত ও দুর্নীতিতাড়িত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই আওয়ামী লীগ সরকার দেশের ও জনগণের সর্বনাশ করার জন্য যা কিছু দরকার সবই করছে। যেভাবে এ কাজ তারা করছে তাতে রাজনৈতিক লোকজন থেকে নিয়ে তাদের নিজেদের দলের একটা বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে ইতোমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুনিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখা যাচ্ছে যে, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি অনেক দেশেই বিশাল আকারে গণআন্দোলন সৃষ্টি করেছে। তিউনিসিয়ার মতো দেশে তারা সরকার ফেলে দিয়েছে এবং তাদের চরম দুর্নীতিপরায়ণ প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বাংলাদেশে চাল থেকে নিয়ে শাক-সবজি প্রত্যেক খাদ্যমূল্য এমনভাবে দ্রুত এবং প্রতিদিন বেড়ে চলেছে, যার পরিণতি অদূর ভবিষ্যতেই ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য। সরকার ও সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজন যে হারে দুর্নীতি করছে তার সঙ্গেই এই খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কিত। সামান্য ও নির্দিষ্ট আয়ের লোকজন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির চাপে এখন দিশেহারা। এই অবস্থার কোনো স্বতঃস্ফূর্ত অথবা সংগঠিত প্রতিরোধ দেখা না গেলেও ঝড়ের পূর্বাভাস খুব স্পষ্ট। দেশ কোন্ দিকে যাচ্ছে, এ প্রশ্নের মধ্যে প্রতিরোধের যে ইঙ্গিত আছে সেটা বোঝার সাধ্য ক্ষমতা মদমত্ত ও দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকারের নেই।

আওয়ামী লীগ যে চোর-দুর্নীতিবাজদের দল হিসেবে এখন নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে এতে কারও সন্দেহ নেই। এই দলের শীর্ষতম নেতৃত্ব থেকে নিয়ে নিম্নতম পর্যায়ের নেতা-নেত্রীরা পর্যন্ত এখন দুর্নীতির জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। একদিকে চরম দুর্নীতি এবং অন্যদিকে এই দুর্নীতি থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য এই সরকার যা করছে তার সবকিছুই দেশ ও জনগণের প্রতি বেঈমানী ছাড়া আর কিছু নয়। এই বেঈমানী করতে দাঁড়িয়ে এরা যে সব কাজ করছে তাতে এদের দুর্নীতিবাজ সমর্থকদের অনেকের মনেও এখন এই দলটির ও এদের নেতা-নেত্রীদের ও সেই সঙ্গে তাদের নিজেদেরও পরিণতি সম্পর্কে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্নীতি ও বেঈমানী এত ধরনের যে তার বিবরণ দেয়া এখানে সম্ভব নয়। তবে এই মুহূর্তের কয়েকটি দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করা দরকার।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর এক খসড়া ২৪ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে। পরদিন ২৫ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তরের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘অন্তত ১০টি সংশোধনীসহ দুদক আইনের গুরুত্বপূর্ণ যে ধারাটি সংশোধনের জন্য অনুমোদন হয়েছে তা হলো— প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে দুদককে কোনো তদন্ত করতে হলে বা মামলা দিতে হলে কিংবা চার্জশিট দিতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।’ দুর্জন দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করে তাদের অবাধে দুর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য এর থেকে বড় সুযোগ কোনো সরকার আর কীভাবে দিতে পারে? শুধু তাই নয়, কোনো সরকার যে নিজেদের দলের চোর, ডাকাত, ঘুষখোর, কমিশনখোরদের রক্ষা করার জন্য এত নির্লজ্জভাবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে এটা বাংলাদেশের মতো দুর্নীতিবাজদের দ্বারা শাসিত দেশেও এর আগে কল্পনা করা যেত না। কিন্তু মাত্র কিছুদিন আগেও যা ছিল কল্পনার অতীত, আওয়ামী লীগ সরকার এখন তা বাস্তবে দেখিয়ে দিল।
দুদক আইনের এই সংশোধনীর অর্থ কী? চুরি, ডাকাতি, ঘুষখোরী, কমিশনখোরী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরাই করে থাকে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা, এমপিরা যে দুর্নীতি করে তার সঙ্গে তো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কারণ, এদের ছাড়া প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা তো শুধু নিজেরাই এ কাজ করতে পারে না। কাজেই প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুদককে কোনো তদন্ত বা মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে, এর অর্থ হলো এ ধরনের কোনো ক্ষমতাসীন ব্যক্তি যতই বড় দুর্নীতিবাজ হোক, যত দুর্নীতিই করুক, তার বিরুদ্ধে দুদকের করার কিছুই থাকবে না। অর্থাত্ যে উদ্দেশ্যে দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে। ঠিক এই উদ্দেশ্যেই যে উপরোক্ত সংশোধনী মন্ত্রিসভা কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এতে সন্দেহ নেই। এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম রহমান তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুগান্তরকে বলেন, ‘সংসদে দুদক আইন সংশোধনীর এই অনুমোদনের বিষয়টি পাস হলে দুদকও বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মতো হয়ে যাবে। তখন আর দুদকের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না।’

আসলে আওয়ামী লীগ সরকার ও আওয়ামী লীগের দলীয় লোকরা যে আকারে ও যত ব্যাপকভাবে এখন দুর্নীতির মাধ্যমে বেপরোয়া লুটপাট করছে তা খুব সহজেই শনাক্ত করে তার বিচার করা যায় ও তাদের শাস্তি দেয়া যায়। যাতে এটা কোনো মতেই হতে না পারে, আওয়ামী লীগের লোকরা, মন্ত্রী-এমপিরা যাতে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে একত্রে চুরি-দুর্নীতি করে আইনের হাতের বাইরে নিরাপদ থাকতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই এই আইন সংশোধন করা হচ্ছে। এ কাজ যে সরকার করে তারা দেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ থেকে নিয়ে অন্যভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে কীভাবে? এদের লোকরাই তো সেসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মালিক ও সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত, যারা দেশে খাদ্যদ্রব্য থেকে নিয়ে সব রকম জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি করে জনজীবন নির্মমভাবে বিপর্যস্ত করছে। এরাই তো হলো সেই ভূমিদস্যুর দল যারা শহর ও গ্রামাঞ্চলে, বিশেষত, গ্রামাঞ্চলে কৃষি জমি সরকারি ও বেসরকারি দস্যুতার মাধ্যমে দখল করে, গরিব মানুষকে তাদের জমিজমা ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে নিজেদের ধনসম্পদ বৃদ্ধি করার এক ক্রিমিনাল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সব থেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এখানে এখন অপরাধের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতেই আজ দেশজুড়ে অপরাধ এমন ব্যাপক, নিষ্ঠুর ও বিচিত্র হয়েছে যার কোনো পূর্ব দৃষ্টান্ত নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী, এমপি ইত্যাদির চুরি, ঘুষখোরী-দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত ও মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতি লাগবে, এই মর্মে আইনের সংশোধনী এই পরিস্থিতিকে যে Point of no return-এ নিয়ে যাবে অর্থাত্ এর থেকে ফেরত যাওয়ার পথ বন্ধ করবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। জনজীবনের জন্য, দেশের জন্য এর থেকে আতঙ্কজনক ও ভয়াবহ ব্যাপার আর কী হতে পারে? কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে এই যে, এ নিয়ে রাজনৈতিক মহল তো বটেই, এমনকি বুদ্ধিজীবী মহল বলে পরিচিত লোকদের মধ্যেও কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া তো নয়ই, এমনকি কোনো প্রতিক্রিয়াই নেই! এটাও আতঙ্কের অন্য এক দিক।

চুরি-দুর্নীতি হাতেনাতে ধরা যায়। আবার চুরি-দুর্নীতি আরও অনেকভাবে নিজের চেহারা দেখায়। এ রকম এক রিপোর্ট এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক হবে। ২৪ জানুয়ারি, অর্থাত্ যেদিন মন্ত্রিপরিষদ দুদক আইনের উপরোক্ত সংশোধনীর অনুমোদন দিয়েছে সেদিনই রাজবাড়ী-২ আসনের আওয়ামী লীগ এমপির এক কাণ্ডের কথা সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ‘ফুল মাড়িয়ে এলেন তিনি’ শীর্ষক প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত এক রিপোর্টে (কালের কণ্ঠ ২৫.১.২০১১) বলা হয়েছে, ‘সে এক রাজকীয় আয়োজন। বিশাল মঞ্চ তৈরি করে সামিয়ানা টানানো হয়েছে। রাস্তায় বিছানো হয়েছে ফুলের পাপড়ি। ৪৫০টি গাড়ি ও মোটর সাইকেলের বহর ঘুরেছে। পাঁচ হাজার লোকের ভূরিভোজ হয়েছে। এতসব আয়োজন রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি জিল্লুল হাকিমের সংবর্ধনার জন্য। জেলা আওয়ামী লীগের এ সভাপতির কৃতিত্ব, তিনি জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বহরপুর কলেজের এমপিওভুক্তিতে সহযোগিতা করেছেন! সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের বাধ্যতামূলক কলেজ ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে।’ বহরপুর কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওহিদুল হক জানান, এতে পাঁচ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে! এই রিপোর্টে আরও যা বলা হয়েছে তা চমকপ্রদ—‘সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের মৃধার বটতলা থেকে কলেজ ক্যাম্পাস পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তায় কার্পেট বিছিয়ে ফুলের পাপড়ি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। মাথার ওপরও ফুলের ঝালর করা হয়। এজন্য যশোরের ঝিকরগাছার গদবালি থেকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে এক ট্রাক ফুল আনা হয়। তৈরি করা হয় বিশালাকৃতির দুটি তোরণ। মঞ্চও করা হয় বিশাল। প্যান্ডেলও ছিল কয়েক হাজার লোকের বসার মতো।’ ওই অনুষ্ঠানের এলাহী কারখানার আরও অনেক বিবরণ ওই রিপোর্টে আছে। কিন্তু এ পর্যন্তই এখানে যথেষ্ট। এর থেকেই প্রমাণিত হয় দুর্নীতি বাংলাদেশে এখন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একটি কলেজের এমপিওভুক্তিতে সহযোগিতার জন্য স্থানীয় এমপিকে এভাবে ওই সংবর্ধনা দেয়ার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে? এর জন্য যে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে সেটা এসেছে কোথা থেকে? দুর্নীতি ছাড়া কি এটা সম্ভব? ওই অনুষ্ঠানের জন্য এই অর্থ কোন সংগঠন বা সংস্থা থেকে অনুমোদন করা হয়েছে? বোঝার অসুবিধে নেই যে, এখানে বেশ বড় আকারেই দুর্নীতি হয়েছে এবং এই দুর্নীতির সঙ্গে শুধু স্থানীয় এমপিই জড়িত নেই, বহরপুর কলেজের অধ্যক্ষও এর সঙ্গে ভালোভাবেই জড়িত। ওই ঘটনা সম্পর্কে দুর্নীতির তদন্ত অবশ্যই করা দরকার। কিন্তু কে করবে এই তদন্ত? কে দায়ের করবে মামলা? যে সংস্থা এ কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছিল তার হাত-পা এখন সরকার শক্তভাবে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করেছে যাতে সরকারের ওইসব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপই নেয়া সম্ভব না হয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সারাদেশে কী ধরনের দুর্নীতি, লুটপাট, সম্পদের অপব্যয় এবং বেপরোয়া কর্মকাণ্ড এখন ঘটছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এ রকম ঘটনা সর্বত্রই ঘটছে।

চরম দুর্নীতির এই মুহূর্তের আর একটি ঘটনা হলো ছয় দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রিটেন গমন। চল্লিশজন সঙ্গে নিয়ে তিনি ওই সফরে গেছেন। যেসব কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে সেগুলোর কোনোটিই এমন গুরুত্বপূর্ণ নয় যাতে এভাবে ১৮ জন মন্ত্রিসভার কর্মচারী, ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী, ৮ জন সাংবাদিকসহ ৪০ জন সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের বিন্দুমাত্র কোনো প্রয়োজন ছিল। ওই সফরের সময় তিনি ২৬ তারিখ হাউস অব কমন্সে এক কর্মসূচিতে যোগদান করবেন, ২৭ তারিখে লন্ডনে আয়োজিত অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তির ওপর বক্তৃতা করবেন, ২৮ তারিখ বিবিসি, ডেইলি টেলিগ্রাফ ও এথনিক বাংলা মিডিয়ায় সাক্ষাত্কার দেবেন। তিনি ব্রিটেনে আওয়ামী লীগের এক সভায় যোগদান করবেন। যেহেতু তিনি একজন প্রধানমন্ত্রী, সেজন্য লন্ডনে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাত্ করবেন যার এমন কোনো গুরুত্ব আছে মনে করার কারণ নেই। ওইসব কাজের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রীর ৪০ সদস্যবিশিষ্ট সঙ্গী-সাথীর দল নিয়ে এত বড় বিদেশযাত্রার প্রোগ্রাম কোন নীতি অনুযায়ী সম্ভব? এতো গেল শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি। এছাড়া আর কোন ব্যক্তিগত কাজে যোগদানের জন্য তিনি ওই সফরে গেছেন এটা এখন জানার উপায় নেই।

যাই হোক, এ হলো সরকারি ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও দুর্নীতির এক স্পষ্ট দৃষ্টান্ত। কিন্তু একে দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করে এ ব্যাপারে তদন্ত করবে কে? ওই তদন্তের ভিত্তিতে বিচার করবে কে? এর জন্য শাস্তির বিধান দেবে কে? ওইসব পথই আইনগতভাবে এখন বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের আইনের বাইরে জনগণের আইন আছে। এর বাইরে আছে জনগণের আদালত ও জনগণের শাস্তি ব্যবস্থা। ওই আদালত, ওই আইন ও ওই শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় সব সময় আছে এটা মনে করার কারণ নেই। অবস্থা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে তাতে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে, জনগণের আদালতে এসবের জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতা-নেত্রীদের চরম শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

More News from অন্যান্য

Developed by: TechLoge

x